দূর্গা ঠাকুর দেখা | Durga thakur dekha

Durga thakur dekha written by Kaberi Ghosh
এটা একটা ওপার বাংলার অপ্রচলিত রম্য রচনা বা হাস্যরসাত্মক। গল্পটা হল এই বাংলাদেশীও একটি কিশোরের খুব শখ হয়েছে পশ্চিমবঙ্গে দূর্গাপূজায় এসে ঘুরে ঘুরে ঠাকুর দেখা। তা ওর এক চাচা পশ্চিমবাংলায় কাজ করেন। তাঁকে কিশোরটি খুব ধরেছে। “চাচা আমায় একবার তোমায় কলকাতায় নিয়ে চলেন। আমার খুব দূর্গা ঠাওর দেখোনের ইচ্ছা।”
চাচা রাজি হয়ে যান,-“ঠিক আছে। দুর্গাপূজার অষ্টমীর দিন নিয়ে যামু, চল।”
ঠিক সময়ে দুর্গাপূজার অষ্টমীর দিন এপার বাংলায় আসে। ঘুরে ঘুরে তারা ঠাকুর দেখে। কখন সামনে কখন ঠাকুরের পিছনে চলে যায়। যাই হোক ঠাকুর দেখে কিশোরটি নিজের দেশে ফিরে আসে। এবার পাড়া পড়শী সবাই ওকে ঘিরে ধরে সে কেমন ঠাকুর দেখল, কি বুঝল। কিশোরটি তার ভাষায় বলে,-
কি ঠাওর দেখলাম চাচা –
হিদুদের দুগ্গি পূজা
বেলপাতা বোঝা বোঝা
দেঁড়িয়েছে সব সারিসারি
বেইনে মাচের মাচা
কি ঠাওর দেখলাম চাচা।
হিংগির উপর বইসা যিনি
কিইবা তার চ্যাকচ্যাকানি
গলাতে ই-য়া বড় হার পইরা
অসুরের বুকে মারে খোঁচা
কি ঠাওর দেখলাম চাচা।
সাদা হইলদা দুইটি ছুঁড়ি
বয়স তাদের উনিশ কুড়ি
পরনে তাদের ঢাকাই শাড়ি
কিন্তু পোঁয়ায় বাঁশের খ্যাঁচা
কি ঠাওর দেখলাম চাচা।
ইঁদুরের ওপর বইসা যিনি
কিইবা তার চ্যাকচ্যাকানি
কান দুটা তার কুলার মতন
দাঁত দুটা তার মুলার মতন
কিন্তু মাথা নেড়া বোচা
কি ঠাওর দেখলাম চাচা।
তারই পাশে এক কদলী গাছে
জোড়া বেল বাঁধধে দিছে
এই ই-য়া বড় ঘোমটা টেনে
সে মাগীর নেই কো পোঁয়ার পাছা
কি ঠাওর দেখলাম চাচা।
ময়ূর-এর উপর বইসা যিনি
কিইবা তার চ্যাকচ্যাকানি
গলাতে উড়ানী জড়ায়ে
মাথাতে টেরি বাগায়ে
যেন বেউস্যা পাড়ার লুচ্ছা
কি ঠাওর দেখলাম চাচা।
