বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থার উপর প্রযুক্তির প্রভাব-

1
technology with current education system

বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থার উপর প্রযুক্তির প্রভাব:

বর্তমান একবিংশ শতাব্দীতে মানব জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে প্রযুক্তির প্রভাব লক্ষ্য করা যায়। শিক্ষাব্যবস্থার ক্ষেত্রেও এর ব্যতিক্রম ঘটেনি। বিগত দুই দশক ধরে প্রযুক্তি শিক্ষাব্যবস্থার পরিকাঠামোকে অনেক উন্নত এবং পরিবর্তিত করে দিয়েছে। বর্তমানে অনলাইন শিক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে যেমন বাড়িতে বসেই অনলাইনে পরীক্ষা দেওয়া সম্ভব হয়েছে তেমনই নিজের দেশে থেকেই বিদেশী কোন বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে শিক্ষাগ্রহণ করে সেই বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিগ্রি লাভ করাও সম্ভব হয়েছে।

বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানও প্রযুক্তিকে কাজে লাগিয়ে নিজেদের শিক্ষা ব্যবস্থাকে উন্নত করছে। আগেকার দিনে কোনো কিছু সম্পর্কে জানতে হলে ছাপা বইয়ের দরকার পড়তো, তাও আবার একই বইতে একটি বিষয় সম্পর্কে সমস্ত তথ্য দেওয়া থাকত না। সমস্ত তথ্য জানার জন্য একই বিষয়ের উপর একাধিক বইয়ের প্রয়োজন পড়তো। সমস্ত বই সব জায়গায় পাওয়াটাও এক দুষ্প্রাপ্য ব্যাপার ছিল। কিন্তু বর্তমানে প্রযুক্তির আগমনে কোন বিষয় সম্পর্কে জানতে হলে ইন্টারনেটে ওয়েবসাইটের মাধ্যমে সেই সম্পর্কে সব তথ্য জানতে পারা যায়। যদি একটি ওয়েবসাইটে সব তথ্য নাও দেওয়া থাকে তাহলেও সেই ওয়েবসাইটে সম্পর্কিত তথ্য সম্বলিত ওয়েবসাইটের লিঙ্ক দেওয়া থাকে যার সাহায্যে নিমিষে অন্য ওয়েবসাইটে গিয়ে সেখান থেকে তথ্য সংগ্রহ করা যায়। এছাড়া ইন্টারনেটের সার্চ ইঞ্জিনে কোন বিষয়ের নাম লিখলে সেই সম্পর্কিত একাধিক ওয়েবসাইট পরপর একটি ওয়েব পেজের উপর চলে আসে। বর্তমনে ইলেকট্রনিক বই বা এবং ভিডিও যা সব সময় ইন্টারনেটে উপলব্ধ থাকে তা থেকেও প্রচুর পরিমাণে তথ্য জানতে পারা যায়। এছাড়াও প্রযুক্তির আর্বিভাব যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নত করায় শিক্ষার্থীরা নিজেদের সমস্যার কথা নিজেদের মধ্যে গ্রুপ ডিসকাসনের মাধম্যে অতি সহজেই সমাধান করতে পারে। বর্তমনে বিভিন্ন দেশের সরকারও অনলাইন শিক্ষাব্যবস্থাকে উন্নত করার কাজে নিজেদের যথাসাধ্য সাহায্য করছে।

যে ৮টি ক্ষেত্রে প্রযুক্তি শিক্ষাব্যবস্থার আমূল পরিবর্তন ঘটাচ্ছে সেগুলি নিম্নলিখিত-

১) বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থা আর চারদেওয়ালের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই প্রযুক্তি সাহায্যে পৃথিবীর যেকোন প্রান্তের মানুষের কাছে সেটি পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হয়েছে। পৃথিবীর ভিন্নপ্রান্তে বসবাসকারী শিক্ষাবিদরা অনলাইন ক্লাসের মাধ্যমে নিজেদের জ্ঞানের ভান্ডার পৃথিবীর যেকোন প্রান্তে বসবাসকারী শিক্ষার্থীর কাছে পৌঁছে দিতে সক্ষম হচ্ছেন।

২) শিক্ষার্থীর নিজেদের কোন প্রশ্ন, নিজেদের কোন সমস্যার কথা অতি সহজেই ভিডিও কনফারেন্স, ইমেলের মাধ্যমে ম্যাসেজিং করে নিজেদের সহপাঠী ও প্রশিক্ষককে নিমেষের মধ্যে জানিয়ে দিতে পারছে এবং খুব অল্প সময়ের মাধ্যেই সেই প্রশ্নের উত্তর একজনের থেকে সবাই জানতে পেরে যাচ্ছে ফলে সকলেরই জ্ঞান ভান্ডারের বিকাশ ঘটছে।

৩) প্রযুক্তির উন্নতির সাহায্যে সদ্য আবিষ্কৃত হওয়া তথ্যও নিমেষের মধ্যে ইলেকট্রনিক বই বা e-book, blog এবং article এর মাধ্যমে সারা বিশ্বের কাছে উপলব্ধ হয়ে যাচ্ছে ফলে নিজেকে সর্বদা আপডেট রাখা এখন আর কোন কষ্ঠ সাধ্য ব্যাপার নয়।

৪) আমরা জানি সকল শিক্ষার্থীর শিক্ষালাভের গতি সমান হয় না। কেউ একবারই সব বুঝে যায় আবার কারুর জিনিষটা বুঝতে বেশ কয়েকবার রিভিশানের দরকার লাগে সেই কথাকে মাথায় রেখে ও প্রযুক্তিকে কাজে লাগিয়ে বিভিন্ন শিক্ষাপদ্ধতির যেমন চাক্ষুষ শিক্ষাব্যবস্থা (visual learning), শ্রবণ শিক্ষাব্যবস্থা (Aural learning) চালু করা হয়েছে যে শিক্ষার্থীর যেমন প্রয়োজন শিক্ষাবিদরা সেই প্রয়োজন অনুসারে ও সেই শিক্ষাপদ্ধতি অবলম্বন করে তাকে শিক্ষা প্রদান করছেন।

৫) আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার করে সমস্ত তথ্য ভিডিও, ডকুমেন্টারী ও এনিমেশন এর মাধ্যমে উপস্থাপনা করে ইন্টারনেটে ছেড়ে দেওয়া হচ্ছে। যা সবসময় ইন্টারনেটে উপলব্ধ থাকায় শিক্ষার্থীরা যেকোনো সময়ে এবং একাধিকবার সেগুলি দেখার মাধ্যমে নিজেদের সামর্থ্য অনুযায়ী জ্ঞান লাভ করতে সমর্থ হচ্ছে।

৬) প্রযুক্তির ব্যবহারে সুধু শিক্ষার্থীরাই নয় শিক্ষাবিদরা লাভবান হতে পারছেন। তারা শিক্ষাপ্রদানের সাথে সাথে নিজেরাও গবেষণার মাধ্যমে নিজেদের জ্ঞানভান্ডরের বৃদ্ধি ঘটাচ্ছেন এবং নতুন নতুন জিনিষ আবিষ্কার করছেন।

৭) শিক্ষাপ্রদান যদি বিনোদনের মাধ্যমে করা যায় তাহলে তা একদিকে যেমন শিশু শিক্ষার্থীদের শিক্ষাব্যবস্থার প্রতি আকৃষ্ট করে তেমনই অনিচ্ছুক ব্যক্তিদের মধ্যে শিক্ষা প্রদান করা সম্ভব হয়। বর্তমানে প্রযুক্তিকে ব্যবহার করে এমন সমস্ত পদ্ধতি এবং গ্যাজেট তৈরী করা হচ্ছে যার সাহায্যে বিনোদনের মাধ্যমে শিক্ষা ব্যবস্থার বিস্তার ঘটানো হচ্ছে।

৮) প্রযুক্তি ব্যবহারের ফলে শিক্ষা ব্যবস্থার ক্ষেত্রে কাগজের ব্যবহার কমে যাচ্ছে। আগে যেখানে ফর্ম ফিলাপ থেকে বই ছাপা, পরীক্ষার প্রশ্নপত্র থেকে উত্তরপত্র সবেতে কাগজের ব্যবহার হত এখন সব কাজই ডিজিটাল মাধ্যমে করা হয়ে থাকে। ফলে কাগজ প্রস্তুতির খরচ তাকে পুনরায় ব্যবহারযোগ্য করে তুলতে খরচ এসবের হাতথেকে রক্ষা পাওয়া যায়।

Softweb Development Technologies আধুনিক প্রযুক্তির বিভিন্ন অবদানকে কাজে লাগিয়ে শিক্ষাব্যবস্থার উন্নতি ও শিক্ষাপ্রসার করে থাকে।

আরো পড়ুন

https://www.facebook.com/srijoni

বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থার উপর প্রযুক্তির প্রভাব-
What’s your Reaction?
+1
5
+1
0
+1
0
+1
0
+1
0
+1
0
+1
1

About Post Author

1 thought on “বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থার উপর প্রযুক্তির প্রভাব-

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *