সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারের সুবিধা এবং অসুবিধা

0

সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারের সুবিধা এবং অসুবিধা:

সোশ্যাল মিডিয়া কি?

সোশ্যাল মিডিয়া হলো ইন্টারনেটের সহযোগিতায় এবং কম্পিউটার, মোবাইল, ট্যাবলেট ইত্যাদি ইলেকট্রনিক ডিভাইসের ব্যবহার করে এক এমন যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে তোলা যে ক্ষেত্রে আপনি নিজস্ব তথ্য, ভাবনা চিন্তা, আপনার সৃষ্টি কলা ইত্যাদি আপনার সুবিধাজনক স্থান থেকেই সারা বিশ্বের সামনে তুলে ধরতে এবং প্রচার করতে সক্ষম হন।

কয়েকটি উল্লেখযোগ্য সোশ্যাল মিডিয়ার উদাহরণ –

কয়েকটি উল্লেখযোগ্য সোশ্যাল মিডিয়া হল ফেসবুক, টুইটার,  ইনস্টাগ্রাম, পিন্টারেস্ট এবং ইউটিউব ইত্যাদি।

সোশ্যাল মিডিয়া সাইটের প্রকারভেদ –

সোশ্যাল মিডিয়া সাইটগুলিকে প্রধানত ৬টি বিভাগে ভাগ করা যায় যথা –

  1. সোশ্যাল নেটওয়ার্ক – সোশ্যাল মিডিয়া বলতে সবথেকে প্রথমে যেটি মাথায় আছে সেটি হল সোশ্যাল নেটওয়ার্কিং সাইট।সোশ্যাল নেটওয়ার্কিং সাইট একই চিন্তাধারার লোকেদের মধ্যে অথবা একই বিষয়ে আগ্রহ প্রকাশকারী লোকেদের মধ্যে ইন্টারনেটের মাধ্যমে সংযোগ স্থাপনে সাহায্য করে। এরকম তিনটি সর্বাধিক জনপ্রিয় সোশ্যাল নেটওয়ার্কিং সাইট হল ফেসবুক, টুইটার, এবং ইনস্টাগ্রাম।
  2. মাইক্রো-ব্লগিং – মাইক্রো-ব্লগিং সাইটগুলি সংক্ষিপ্ত লিখিত তথ্য পরিবেশন করার অনুমতি দেয়। তবে এর মধ্যে অন্য কোন সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মের লিংক বা কোনো ওয়েবসাইটের লিংক দেওয়া থাকতে পারে যার সাহায্যে পরবর্তীকালে এই সাইটে গিয়ে সেই বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য জানতে পারা যায়। এরম একটি মাইক্রো-ব্লগিং সাইট হলো টুইটার যার মাসিক সক্রিয় ব্যবহারকারীর সংখ্যা ৩২১ মিলিয়নেররও বেশি।
  3. বুকমার্ক সাইট – বুকমার্কিং  সাইটগুলি ব্যবহারকারীকে নিজস্ব ওয়েবসাইটের লিংক ট্যাগ করার এবং শেয়ার করার অনুমতি দেয়। এখানে ওয়েবসাইটের লিংকগুলি শ্রেণীবদ্ধ অবস্থায় থাকার কারণে একটি নির্দিষ্ট জনগোষ্ঠীর মধ্যে সেগুলির প্রচার করা খুব সহজ হয়। এরকম একটি জনপ্রিয় বুকমার্কিং সাইট হল পিন্টারেস্ট যার মাসিক সক্রিয় ব্যবহারকারীর সংখ্যা ৩০০মিলিয়নেরও বেশি।
  4. মিডিয়া সেয়ারিং – মিডিয়া সেয়ারিং সাইটগুলি তাদের ব্যবহারকারীদের বিভিন্ন ধরনের মিডিয়া যথা ছবি, ভিডিও এবং অডিও ইত্যাদি শেয়ার করার অনুমতি দেয়। এখনো পর্যন্ত সবথেকে জনপ্রিয় মিডিয়া সেয়ারিং সাইট হল ইউটিউব।
  5. সোশ্যাল নিউজ – সোশ্যাল নিউজ সাইটগুলি ব্যবহারকারীদের বাইরের কোন ওয়েবসাইটে থাকা খবরের লিংক পোস্ট করতে দেয়। এরপর সোশল নিউজ সাইটের অন্যান্য ব্যবহারকারীরা ওই লিঙ্ক গুলিকে ভোট দিয়ে থাকেন, সর্বাধিক ভোট প্রাপ্ত লিংকগুলি সোশ্যাল নিউজ সাইটে বিশেষভাবে প্রদর্শিত হয়। রেড্ডিট হলো এমনি এক জনপ্রিয় সোশ্যাল নিউজ সাইট।
  6. কমিউনিটি ব্লগ – নিজস্ব কোন ওয়েবসাইট বা আউটলেট ছাড়াই গুরুত্বপূর্ণ মেসেজ ইন্টারনেটের দুনিয়ায় শেয়ার করতে কমিউনিটি ব্লগিং সাইটগুলি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। কয়েকটি উল্লেখযোগ্য মিডিয়া ব্লগিং সাইট হল মিডিয়াম, টাম্বলার ইত্যাদি।

সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারের সুবিধা –

  • এই ধরনের ওয়েবসাইটের এর সাহায্যে নিজের বন্ধুবান্ধব আত্মীয়স্বজনদের সঙ্গে অতি সহজেই যোগাযোগ ব্যবস্থা বজায় রাখা যায় তা সেই ব্যক্তি পৃথিবীর যেকোন প্রান্তেই থাকুক না কেন।
  • এই ধরনের ওয়েবসাইটের সাহায্যে এমনসব অপরিচিত ব্যক্তির সাথেও বন্ধুত্বের সম্পর্ক গড়ে তোলা যায় যারা আপনার আত্মীয়দের বা বন্ধুদের বন্ধু অথবা একই ধরনের বিষয়ের উপর আগ্রহ রাখেন।
  • সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারের আরেকটি অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সুবিধা হল যে আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় যারা বন্ধু ও ফলোয়ার আছে তাদের থেকেও অনেক সময় সাহায্য পাওয়া যায়। কারণ সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীরা নিজেদের বন্ধু এবং ফলোয়ারদের সাথে বিভিন্ন ধরনের তথ্য যেমন রেসিপি, ফ্যাশন, টেকনোলজি ইত্যাদি সম্পর্কিত তথ্য শেয়ার করে থাকেন যা কোন ব্যক্তিকে তার কার্য উদ্ধারে সাহায্য করতে পারে।
  • সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবসায়িক প্রচারে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। সোশ্যাল মিডিয়ার সাহায্যে বড় বড় ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান থেকে শুরু করে ছোট ছোট ব্যবসায়ীরাও বিনামূল্যে নিজেদের প্রোডাক্টের যাবতীয় তথ্য জনসমুদ্রের সামনে তুলে ধরতে পারেন। তা একদিকে যেমন কোন উঠতি ব্যবসায়ীকে তার ব্যবসা দাঁড় করাতে সাহায্য করে তেমনি অপরদিকে একজন সুপ্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী কেও তার ব্যবসার আরো বৃদ্ধি ঘটাতে সাহায্য করে শুধু নিজের দেশেই নয় বিদেশেও।
  • সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে মার্কেটিং করার একটি সবথেকে বড় সুবিধা হল বিভিন্ন জনপ্রিয় সোশ্যাল মিডিয়া গুলির সদস্য হওয়ার জন্য কোন অর্থের প্রয়োজন হয় না অর্থাৎ বিনামূল্যে এই সমস্ত সাইটের সদস্য হওয়া যায়। তবে এই সমস্ত সোশ্যাল মিডিয়া সাইটে অর্থের বিনিময়েও নিজস্ব ব্যবসার প্রচার করা যায় তবে সেটি বাধ্যতামূলক নয়।
  • সোশ্যাল মিডিয়ার সাহায্যে জনগণ কোন জিনিসটা বেশি পছন্দ করছেন, কোন অফারটি পেতে চাইছেন ইত্যাদি বিভিন্ন তথ্য জানতে পারা যায়। যা আপনার ব্যবসায়িক কৌশল নির্ধারণের সাহায্য করে এবং আপনার ব্যবসাকে উন্নতির দিকে এগিয়ে নিয়ে যায়।

সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারের অসুবিধা –

  • সোশ্যাল মিডিয়া বেশি সময় ধরে ব্যবহার করার ফলে আমরা প্রচুর কাজের সময় নষ্ট করে ফেলি ফলে আমাদের কাজের ক্ষতি হয়।
  • ছোট ছোট বাচ্চারা সোশ্যাল মিডিয়ার প্রতি আকৃষ্ট হয়ে পড়ার ফলে তাদের পড়াশোনার ক্ষতি হয়। এছাড়া সোশ্যাল মিডিয়ায় বিভিন্ন ধরনের লোক থাকে যারা বিভিন্ন ধরনের প্রসঙ্গ সম্পর্কে তথ্য শেয়ার করে থাকেন যার অনেক কিছুই বাচ্চাদের সেই বয়সে জানা উচিত নয় কিন্তু সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারের ফলে তারা সেগুলো জানতে পেরে যায় যা তাদের তাদের ভবিষ্যতের ওপর খারাপ প্রভাব ফেলে।
  • অনেকে ভুয়া অ্যাকাউন্ট খুলেও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার করে থাকেন সেই রকম কোনো ব্যক্তি বা সংস্থার সংস্পর্শে এলে ভবিষ্যতে মানুষকে বড় ধরনের বিপদের সম্মুখীন হতে পারে।
  • সোশ্যাল মিডিয়া আপনার ব্যবসার উপর খারাপ প্রভাব ফেলতে পারে। এটি যেমন ব্যবসার প্রচারে একটি বিজ্ঞাপনী মাধ্যম হিসেবে কাজ করে তেমনি আপনার গ্রাহকরা এটিতে আপনার ব্যবসা সম্পর্কে বিভিন্ন মন্তব্য পোস্ট করতে পারেন এখন মন্তব্যগুলো হয় যদি নিন্দামুলক তাহলে তা আপনার ব্যবসার ওপর নেগেটিভ প্রভাব ফেলে।
  • সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট হওয়া কোন জিনিস মুহূর্তের মধ্যে সারাবিশ্বে ভাইরাল হয়ে যেতে সক্ষম। সোশ্যাল মিডিয়ায় কোন কিছু ভুল মন্তব্য পোস্ট করা হলে বা কেউ যদি সম্পর্কে কারুর সম্পর্কে নেগেটিভ তথ্য শেয়ার করেন তাহলে তা নিমিষেই  ভাইরাল হয়ে যায় এবং সেই ব্যক্তি সম্মান হানির সম্ভাবনাও থাকে।

Softweb Development Technologies এর সদস্যরা আপনাকে সোশ্যাল মিডিয়ায় ব্যবসার প্রচারে প্রয়োজনীয় এবং গুরুত্বপূর্ণ মতামত দিতে সক্ষম।


ওয়েবসাইটের সুবিধা

https://www.facebook.com/srijoni

আরো পড়ুন

সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারের সুবিধা এবং অসুবিধা
What’s your Reaction?
+1
1
+1
0
+1
0
+1
0
+1
0
+1
0
+1
0

About Post Author

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *