বিশ্বাস:

ঈশ্বরের মহিমা বোঝা বড়োই কঠিন। বিশ্বাস যার আছে সেই বুঝবে তার মহিমা। একটা ছোট গল্প বলি।

একদিন দেবর্ষি নারদ মর্ত্যে এলেন। ঈশ্বরের প্রতি কার কতটা বিশ্বাস দেখার জন্য। এক গ্রামের পথ ধরে যাচ্ছেন, এক ব্রাহ্মণ এসে নারদ মুনিকে প্রণাম করে বললেন,
-“হে মহর্ষি আপনি প্রভুর কাছ থেকে আসছেন?”
মহর্ষি বললেন,
-” হ্যাঁ বৎস।”
ব্রাহ্মণ বললেন,

-“মহর্ষি আপনি একবার প্রভুকে জিজ্ঞাসা করবেন; আমার নিয়তিতে কি লেখা আছে? প্রভু কি আমায় তাড়াতাড়ি তার চরণে ঠাঁই দেবেন? আর কত দেরী? দিন রা ত   একত্র করে তার ভজন করছি। তিনি যেন আমায় তার কাছে তাড়াতাড়ি ডাকেন?”
মহর্ষি বললেন,
-” ঠিক আছে বৎস। আমি নিশ্চই তোমার কথা বলবো। তুমি নিষ্ঠাবান ব্রাহ্মণ। তুমি নিরাশ হয়ো না। আচ্ছা আমি আজ চললাম।”

কথাটা বলেই মহর্ষি এগিয়ে চললেন। বেশ কিছুদূর গিয়ে দেখেন, এক গাছতলায় এক মুচি জুতো সেলাই করছে। নারদ মুনি কাছে যেতেই,সাষ্টাঙ্গে প্রণাম করে মুচি। বললো,
-” হে দেব ঋষি আপনি এসেছেন। আমার কি সৌভাগ্য। আজ আপনার দেখা পেলাম। আমার একটা উপকার করবেন মুনিবর?” – অতিভক্তি ও বিনয়ের সাথে প্রশ্ন করে মুচি।
নারদমুনি অবাক হয়ে যান মুচির ভক্তি ও বিনয় দেখে। তিনিও মিষ্টি করে বলেন,
-” হ্যাঁ নিশ্চই। “
ভক্তি ভরে কপালে দুহাত ঠেকিয়ে মুচি বলে,
-” আমার প্রভু! আমার ঈশ্বর, প্রাণের ঠাকুর নারায়ণকে জিজ্ঞাসা করবেন, আর কত কাল প্রভুর শ্রী চারণ ছাড়া থাকবো। কবে তার শ্রীচরণে ঠাঁই পাবো?”
নারদমুনি বললেন,
-” আচ্ছা বেশ তোমার কথা বলবো।”
চলে গেলেন নারদ মুনি স্বর্গে।
একদিন সুযোগ বুঝে নারদ মুনি প্রভু নারায়ণের কাছে গিয়ে বললেন,
-” প্রভু আমি মর্ত্যে গিয়েছিলাম। “
-” বাহ্ বেশ। ” – মুচকি হেসে উত্তর দিলেন নারায়ণ।
-” মর্ত্যে একজন ব্রাহ্মনের সঙ্গে দেখা হল। মন্দিরে পূজা পার্বন করেন চার বেলা, হোম যজ্ঞ করেন,নরনারায়ণ সেবাও করেন। আমার দেখে স্বভক্তি সহকারে পাদ্যঅর্ঘ দিয়ে আমার সেবা করলেন। “
নারদমুনি একটু থেমে আরো কি বলবার আগেই প্রভু নারায়ণ বললেন,
-” নারদ আর কারোর সঙ্গে তোমার দেখা হয়নি?”
-“ওঃ হো, হ্যাঁ প্রভু এক মুচির সাথে দেখা হয়েছিল।”-ইতস্তত ভাবে বললেন নারদমুনি।
-” সে ওই ঘর থেকে বেড়োবার সময় আর সারাদিন কাজ সেরে ঘরে ঢোকার সময় তোমার একটা ছবিতে শুধু প্রণাম করে। ব্যাস।” – মুখ ব্যাজার করে বলে নারদ মুনি।
প্রভু নারায়ণ বলেন,
-” হ্যাঁ  সে  কি বললো; বলো?”
নারদ মুনি বললেন,
-” প্রভু তারা দুজনেই জিজ্ঞাসা করতে বলেছে আপনাকে; তাদের কবে আপনার চরণে ঠাঁই দেবেন আপনি?”
কথাটা শুনে মুচকি মুচকি হাসতে লাগলেন প্রভু। নারদ মুনি কিছুক্ষন চুপ করে থেকে আবার বললেন,
-” প্রভু তাদের কি বলবো?”
নারায়ণ বললেন,
-” তুমি মর্ত্যে গেলে তাদের দুজনকেই বোলো যে প্রভু একটি সুচের গর্তে একটি হাতিকে ঢোকাচ্ছেন আর বার করছেন। “

নারদ মুনি অবাক হয়ে যান। নারায়ণ নারদের অবস্থা দেখে বলেন,
-” তখন তুমি নিজেই বুঝতে পারবে নারদ। আমার এই কথা শোনার পর তাদের প্রতিক্রিয়া লক্ষ করো। কাকে আমার চরণে ঠাঁই দেব। “

দুই দিন পর নারদ মুনি মর্ত্যে গেলেন। এদিক সেদিক ঘুরে, ব্রাহ্মণের কাছে গেলে। নারদকে দেখে ব্রাহ্মণ প্রণাম করতে ভুলেই গেলেন। অতি আগ্রহে জিজ্ঞাসা করলেন,
-” মহর্ষি আমার কথা প্রভুকে বলেছিলেন? প্রভু কি বললেন?”
নারদ মুনি এদিক ওদিক তাকিয়ে বসার জায়গা খুঁজলেন, না পেয়ে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে বললেন,
-” প্রভু কিছু বললেন না তিনি একটি ছোট সূচের গর্তে একটি হাতিকে ঢোকাচ্ছেন আর বার করছেন।”
হটাৎ ব্রাহ্মণ রেগে বললেন,
-” মানে? তিনি এখন ওই অকাজে ব্যস্ত। একটা সূচের মধ্যে কি হাতি ঢোকানো যায়? এটাও তিনি জানেন না। আমার কথা শোনার তার সময় নেই দেখি। “-রাগে গজগজ করতে করতে চলে গেলেন মন্দিরে। মহর্ষি কিছুক্ষন সেই দিকে তাকিয়ে ভাবতে লাগলে, এতো রাগ হয়েছে ব্রাহ্মণের যে নারদ মুনিকেও গ্রাহ্য করলেন না।
এবার নারদ মুনি গেলেন মুচির কাছে। মুচির ঘরের সামনে গিয়ে দেখেন। মুচি রোজকার মতো ঘরের বাইরে গাছ তলায় বসে জুতো সেলাই করছে না। মহর্ষি একটু অবাক হয়ে মুচির ঘরে প্রবেশ করলেন। মুচির কেউ নেই তিন কূলে। ঘরে শুয়েছিল মুচি। নারদ মুনি ঘরে প্রবেশ করতে মুচি ধড়মড় করে উঠে মাটিতে একটা আসন পেতে দিলো। তারপর পুজো করা বাতাসা আর জল দিলো। বললো,
-” হে মহর্ষি আমি বড়ই অসুস্থ। সে কারণে আপনার আপ্পায়নের ত্রুটি হলো। মার্জনা করবেন। “
কথাটা বলতে বলতে মুচি পড়ে যাচ্ছিল। মহর্ষি তাকে ধরে ফেলে। দেখেন মুচির গায়ে বেশ জ্বর। নারদ মুনি ওকে বিছানায় শুইয়ে  দিলেন। বললেন,
-” ব্যস্ত হয়ো না। তুমি শোও।”
মুচি কিন্তু খুব ব্যস্ত হয়েই বললো,
-” কি বললেন প্রভু আমার কথা শুনে। বলুন না দেবর্ষি।”- আগ্রহ ভরে তাকিয়ে থাকে নারদমুনির দিকে।
মহর্ষি নারদ আসতে আসতে বললেন,
-” প্রভু তোমার কথা শুনে কিছুই বলেন নি। তিনি ব্যস্ত ছিলেন একটি ছোট সূচের গর্তে হাতি ঢোকাচ্ছিলেন আর বার করছিলেন।”

শুনে মুচি দুহাত জোর করে মাথায় ঠেকিয়ে বললেন,
-” হে প্রভু তোমার লীলা বোঝা ভার। তুমিই তো পারবে একটা সূচের গর্তে হাতিকে ঢোকাতে আর বার করতে।  তুমি ছাড়া আর কার ক্ষমতা আছে! পঙ্গুকে পাহাড় ডেঙাতে সাহায্য করো, অন্ধকে চোখের আলো জোগাও। তোমার মহিমা অপার।”  কথাগুলো বলতে বলতে মুচি অঝোর ধারায় কাঁদতে লাগলো। নারদ মুনি আসতে আসতে ওখান থেকে চলে গেলেন; বুঝতে পারলেন। মুচি ঈশ্বরের বিশ্বাসের জোরে ভক্তির জোরে আজই প্রভুর চরণে ঠাঁই পাবেই পাবে। 

Audio Story Starts From Here:

Story InfoName
WriterKaberi Ghosh
Intro & EndingPriyanka Dutta
CharactersName
KathakShalini Sur Roy
Narayan (GOD)Souradip Roy
Narad (GOD)Debanshu Ghosh
PurohitJoydeep Lahiri
MuchiSuman Sadhukhan

Find us on Facebook – click here

আরো পড়ুন

What’s your Reaction?
+1
0
+1
0
+1
0
+1
0
+1
0
+1
0
+1
0

About Post Author

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *